দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় আরব মিত্রদের উদ্বেগ দূর করতে কূটনৈতিক সফরে নেমেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি স্বীকার করেছেন, এই চুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর শঙ্কা মোকাবিলা করা তার এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছান রুবিও। আগামী দিনে তিনি কুয়েত ও বাহরাইন সফর করবেন এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই জোটে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানসহ ছয়টি দেশ রয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, আলোচনায় এই চুক্তি নিয়ে মিত্রদের উদ্বেগ অবশ্যই উঠে আসবে। একই সঙ্গে চুক্তির স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে বলে জানান তিনি।
চুক্তির খসড়ায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করার কোনো বিধান না থাকা, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রুবিও স্পষ্ট করে জানান, এই সফরে তিনি কোনো পুনর্গঠন তহবিলে অংশ নেওয়ার জন্য মিত্র দেশগুলোকে অনুরোধ করবেন না। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান অর্থ পাবে কি না, তা নির্ভর করবে তেহরানের আচরণের ওপর।
তিনি আরও বলেন, এটা এখনই নয়, ভবিষ্যতের বিষয়।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয়টি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিত্র। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চলাকালে এসব দেশ মার্কিন বাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছে এবং একই সঙ্গে ইরানি হামলার চাপও মোকাবিলা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দেশগুলোর মধ্যে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে এই চুক্তি নিয়ে হতাশ এবং বিস্মিত। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকা এবং আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধির আশঙ্কা তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বাহরাইনসহ কিছু দেশ আশঙ্কা করছে, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ইরান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।
এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভাব্য পরিবর্তনও উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়, কারণ এই জলপথের ওপর তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানি নির্ভরশীল।
রুবিও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশই এই প্রণালিতে কর আরোপ করতে পারবে না।
চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থন জানালেও কিছু রিপাবলিকান নেতা একে তেহরানের প্রতি ছাড় হিসেবে সমালোচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে রুবিওকে একদিকে মিত্রদের আশ্বস্ত করতে হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অবস্থান দুর্বলও করা যাবে না—যা তার জন্য একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
/অ